জীবনের শুরুতে সঞ্চয় করি,সুন্দর সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ি।
বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির কৃষি থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদনমুখী শিল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর অন্যতম মাধ্যম হলো গার্মেন্টস এবং রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশের অর্থনীতি
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের ৩৫ তম এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ২য় স্থান এ রয়েছে। বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে ৬.৩ শতাংশ হার ধরে রেখে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় জিডিপি ৪,৬০০ মার্কিন ডলার। বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তি ৭,০০,০৯,৩৫৩ জন।
বাংলাদেশের আয়ের প্রধান উৎস
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস হলো রাজস্ব কর বাবদ সংগ্রহকৃত অর্থ। মূলত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর এই দুইয়ের সমন্বয়ে কর রাজস্ব গঠিত হয় এবং এই খাত থেকে সরকারের আয়ের মোট ৮০ শতাংশের বেশি গৃহীত হয়। বাংলাদেশের জিডিপির উৎপাদন খাত মূলত ৫ টি। যেমনঃ
১.উৎপাদন
২.পাইকারি ও খুচরা ব্যাবসা
৩.পরিবহন
৪.নির্মাণ
৫.কৃষি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন
বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নশীল।বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন এর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গৃহীত করা হয়েছে এ সকল পরিকল্পনার মধ্যে কিভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করা যায় তা আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা। যা আয় ব্যয় হ্রাসে সমান অবদান রাখে
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হলো মূলত সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনা। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গৃহীত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব
যে কোন দেশের আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ একটি সল্পোন্নত দেশ। এই দেশের ও দেশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন এর জন্য প্রয়োজন সল্প উপার্জনের অর্থ ব্যবহারের সুষ্ঠু পরিকল্পনা। শুরুতেই পরিকল্পনা করে নিলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি করা সহজতর হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে রপ্তানিমূখী শিল্পখাত। ২০২১-২২ অর্থ বছরে শুধু মাত্র তৈরি পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানির পরিমাণ ৪২.৬১৩ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮১.৮১ ভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানিতে বিশ্বে একক দেশ হিসেবে এর স্থান ২য় এবং শীর্ষ স্থানে রয়েছে চীন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমস্যা
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি এবং বিশ্বের নিন্ম আয়ভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন এর পথে প্রধান কিছু বাঁধা রয়েছে। যেমনঃ
১.দারিদ্র্যতা
২.জনসংখ্যা বৃদ্ধি
৩.নিরক্ষরতা
৪.সামাজিক বাঁধা
৫.সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব
৬.বেকারত্ব প্রভৃতি।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমস্যার সমাধান
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্যার সমাধান করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন হওয়া।সমাধান সমূহঃ
১.নিরক্ষরতা দূর করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া।
২. বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা
৩. দারিদ্র্যতা দূরীকরণ।
৪.সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৫.অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি মোকাবেলা করা।
৬. সল্প আয়ের সুষ্ঠু ব্যয়ের পরিকল্পনা করা।
কিভাবে আর্থিক পরিকল্পনা ভবিষ্যতে সাহায্য করতে পারে
একটি সুষ্ঠু আর্থিক পরিকল্পনা যে কোন মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর ও সুরক্ষিত করতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষ কি ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে পারে তা কেউ জানে না। মানুষ হঠাৎ করে অসুস্থ হতে পারে, কর্মক্ষেত্রে উপার্জন ক্ষমতা কমে যেতে পারে বা যে কোন দূর্ঘটনার শীকার হতে পারে। এ সময় আর্থিক পরিকল্পনা প্রনয়নের ফলে সঞ্চয়কৃত অর্থ ভবিষ্যতে মূখ্যভাবে সাহায্য করবে। আর্থিক সঞ্চয় হলো বিপদকালীন বন্ধু।
অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় পরিকল্পনা
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সরকার প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন দ্রব্যের অতিরিক্ত কর ধার্য করে এবং বাজেট উদ্বৃত্ত যেমন সরকারি রাজস্ব হতে সরকারের বিবিধ করচ মিটানোর পর যা উদ্বৃত্ত থাকে তা সঞ্চয় হিসাবে সংগ্রহ করতে পারে।
বেসরকারি সঞ্চয় পরিকল্পনা
জনসাধারণের বিক্ষিপ্ত সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে একত্রিত করে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে লাগানো যায়। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিমা কোম্পানি ইত্যাদির সঞ্চয় ও পরিকল্পনা জন্য ব্যবহার করা যায়।
ক্ষুদ্রঋন
ক্ষুদ্রঋণ হচ্ছে সল্পপরিমানে (১০০০ থেকে ১০,০০০ পযন্ত) অর্থ জামানতবিহিন ভাবে ঋণ প্রদান। সাধারন্ত বেকার দরিদ্র উদ্যোক্তা এবং দরিদ্রভাবে বসবাস করেন এমন জনগোষ্ঠী যারা সাধারনত ব্যাংকগুলোর ঋণের আওতায় আসতে পারেনা তাদের সহজশর্তে ঋণ প্রদান করা হয়।
আধুনিক ক্ষুদ্র ঋণের জনক
বিশ্বে আধুনিক ক্ষুদ্রঋণের জনক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ আইনবলে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে। এ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়। এ জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ব্যাংকার টু দ্য পুওর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, এক নারীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর, যিনি বাঁশ দিয়ে চেয়ার বানান। দিনে ২০ টাকা আয় হয় তাঁর চেয়ার বিক্রি করে। আয় কম হওয়ার কারণ, বাঁশ এনে দেওয়া ব্যক্তিকেই তাঁর আয়ের একটা বড় অংশ দিয়ে দিতে হয়। ড. ইউনূসের উপলব্ধি হচ্ছে, প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা। ওই নারী যদি নির্ভর করার মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ পান, তবে স্বনির্ভর হতে পারবেন। এ উপলব্ধি থেকেই তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা
বাংলাদেশের প্রথম গ্রামীণ ব্যাংক একটি পরীক্ষামূলক ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করে। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক-এর মতো বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ৮০০-এর অধিক এনজিও দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সঞ্চয় কি?
সাধরণত সঞ্চয় হলো আয় হতে সকল ধরনের খরচ বাদ দিয়ে যা অবশিষ্ট অংশ থাকে তাই। সঞ্চয় হচ্ছে আয়ের একটি অংশ যা বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে জমিয়ে রাখা।
সঞ্চয় প্রকল্প
বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে।যেমনঃ
২. ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র গৃহীত হয়েছে।
৩. পরিবার সঞ্চয়পত্র।
৪. পেনশনার সঞ্চয়পত্র সমূহ গৃহীত করা হয়েছে।
সঞ্চয়বন্ডঃ- ১.বাংলাদেশের প্রাইজবন্ড।
২.ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড।
৩. ইউ এস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড।
৪. ইউ এস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড।
ডাকঘর সঞ্চয় বন্ডঃ-১. ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক -সাধারণ হিসাব।
২.ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক - মেয়াদী হিসাব।
৩. ডাক জীবন বীমা ও অ্যানুইটি প্রভৃতি।
আপনার জন্য সঞ্চয় অথবা বিনিয়োগ কোনটি উত্তম ?
নির্দিষ্ট আয় থেকে প্রতি মাসের সকল খরচ মেটানোর পরে কিছু পরিমান অর্থ সঞ্চয়ের জন্য প্রতিটি কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্কের এক প্রকার লড়াই করতে হয়।জমানো এই অর্থ দিয়ে আপনি আপনার অধিক খরচের দিনগুলোতে আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ দিনগুলো সুন্দর ও সুরক্ষিত করতে পারেন। তাই সকলের উচিত মাসের শুরুতে আয় ও ব্যায়ের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা। আয়কৃত অর্থ নিরাপদে জমিয়ে রাখার অন্যতম উপায় হলো একটি সঞ্চয়ী একাউন্ট খোলা। এই সঞ্চয়ী একাউন্টগুলো অনেক সহজ স্বাভাবিক ও সরল প্রকৃতির, এতে জমাকৃত অর্থের ওপর ঝুঁকি কম থাকে আর লাভও মাঝারি আকারের। আর অন্য উপায়টি হলো কষ্টার্জিত অর্থের বিনিয়োগ করা।বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় অর্থ নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে ঝুকিপূর্ণ বিনিয়োগই বেশি রিটার্ন সরবরাহ করে। কোন উপায়টি আপনার জন্য উত্তম তা নির্ভর করে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর।যেমনঃ-
১.ঝুঁকি সহনশীলতা
২.অভীষ্ট লক্ষ্য
৩.শুরুতে কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন
৪.আপনার বর্তমান বয়স কত।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগ এই দুই উপায়ের জন্যই মানুষ অর্থ বরাদ্দ করতে পারে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনার অতিরিক্ত অর্থ আপনি সঞ্চয় করবেন নাকি বিনিয়োগ করবেন তা সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কঠিন।
বাংলাদেশের জিডিপি তে বিভিন্ন খাতের অবদান
বাংলাদেশের জিডিপি মূলত তিনটি খাতের সমন্বয়ে গঠন করা হয়। এই খাতগুলো হলো কৃষিখাত, শিল্পখাত এবং সেবাখাত। জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান হলো সেবাখাতের গত অর্থ বছরে ৫৩.৬২ শতাংশ। শিল্পে ৩০.৪২ শতাংশ এবং কৃষিখাতের অবদান ১৫.৯৬ শতাংশ। জিডিপি হিসাব করতে গিয়ে ১৫ টি খাত ও উপখাতের বাজারমূল্য হিসাব করা হয়। বাৎসরিক হিসাবের জিডিপি কে প্রবৃদ্ধি বলা হয়। গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বাজার মূল্যে বাংলাদেশের জিডিপি এর আকার ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০০৫- ০৬ ভিত্তি ধরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ ও ভিশন ২০৪১ সম্পর্কে গৃহীত পরিকল্পনা
ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপকল্প ২০২২ এর সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় সরকার এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য অত্যাধুনিক পাওয়ার গ্রিড,গ্রিন ইকোনমি, দক্ষতার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে স্বীকৃতি প্রদান ও নগর উন্নয়নে কাজ করছে।হার্ডওয়্যার ও হিউম্যানওয়ার কে একসাথে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বাংলাদেশ।
সার্বজনীন পেনশন স্কিম
সার্বজনীন পেনশন স্কিম হলো বাংলাদেশ সরকারের অবসরভাতা উদ্যোগের একটি ব্যবস্থা। একজন নাগরিকের বয়স ও অবদানের ভিত্তিতে নির্ভর করে এই সুবিধার তারতম্য হয়ে থাকে। যার যত বেশি অবদান তার তত বেশি পেনশন। ২০২২ সালের ১৭ ই ফেব্রুয়ারী দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ওপর একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন এবং দ্রুত সম্ভব এই পেনশন ব্যবস্থার ওপরে আইন প্রনয়ণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সার্বজনীন পেনশন স্কীমের আইনের খসড়া প্রকাশিত হয়। অর্থমন্ত্রী আা হ ম মোস্তফা কামাল ৯ জুন ২০২২ সালে ঘোষণা করেন যে ২০২৩ সালে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য “জাতীয় পেনশন কতৃপক্ষ “ গঠন করা হয়। সার্বজনীন পেনশন স্কীম জুলাই ২০২৩ সালে চালু হওয়ার কথা ছিলো। তবে পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট ২০২৩ সালে চালু হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সার্বজনীন পেনশন স্কীমের উদ্ভোদন করেন।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। সাধারণত একটি দেশের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশে এই পরিকল্পনা গুলো ৫ বছরের জন্য তৈরি করা হয়। ৫ বছরের জন্য তৈরি করা হয় তাই একে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বলা হয়। ১৯৭২ সালে “বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন” গঠনের পর দেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।এই কমিশন ১৯৭৩ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ করেন। বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার নির্ধারিত সময়সীমাঃ-
১. প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা – ( ১৯৭৩-১৯৭৮) সাল।
২.দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৮০-১৯৮৫) সাল।
৩. তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৮৫-১৯৯০) সাল।
৪. চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৯০ -১৯৯৫) সাল।
৫.পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৯৭-২০০২) সাল।
৬.ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–( ২০১১-২০১৫) সাল।
৭.সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা-( ২০১৬-২০২০) সাল।
৮.অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–( ২০২০-২০২৫) সাল পর্যন্ত।
সঞ্চয় ভবিষ্যতের সম্পদ
বর্তমানের সঞ্চয় আগামী ভবিষ্যতের সম্পদ। ভবিষ্যতে কোন ধরনের বিপদ আপদ ও আর্থিক ভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সঞ্চয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম
বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির কৃষি থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদনমুখী শিল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর অন্যতম মাধ্যম হলো গার্মেন্টস এবং রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের ৩৫ তম এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ২য় স্থান এ রয়েছে। বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে ৬.৩ শতাংশ হার ধরে রেখে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় জিডিপি ৪,৬০০ মার্কিন ডলার। বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তি ৭,০০,০৯,৩৫৩ জন।
বাংলাদেশের আয়ের প্রধান উৎস
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস হলো রাজস্ব কর বাবদ সংগ্রহকৃত অর্থ। মূলত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর এই দুইয়ের সমন্বয়ে কর রাজস্ব গঠিত হয় এবং এই খাত থেকে সরকারের আয়ের মোট ৮০ শতাংশের বেশি গৃহীত হয়। বাংলাদেশের জিডিপির উৎপাদন খাত মূলত ৫ টি। যেমনঃ
১.উৎপাদন
২.পাইকারি ও খুচরা ব্যাবসা
৩.পরিবহন
৪.নির্মাণ
৫.কৃষি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন
বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নশীল।বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন এর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গৃহীত করা হয়েছে এ সকল পরিকল্পনার মধ্যে কিভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করা যায় তা আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা। যা আয় ব্যয় হ্রাসে সমান অবদান রাখে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হলো মূলত সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনা। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গৃহীত করা হয়েছে।
পরিকল্পনার গুরুত্ব
যে কোন দেশের আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ একটি সল্পোন্নত দেশ। এই দেশের ও দেশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন এর জন্য প্রয়োজন সল্প উপার্জনের অর্থ ব্যবহারের সুষ্ঠু পরিকল্পনা। শুরুতেই পরিকল্পনা করে নিলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি করা সহজতর হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে রপ্তানিমূখী শিল্পখাত। ২০২১-২২ অর্থ বছরে শুধু মাত্র তৈরি পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানির পরিমাণ ৪২.৬১৩ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮১.৮১ ভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানিতে বিশ্বে একক দেশ হিসেবে এর স্থান ২য় এবং শীর্ষ স্থানে রয়েছে চীন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমস্যা
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি এবং বিশ্বের নিন্ম আয়ভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন এর পথে প্রধান কিছু বাঁধা রয়েছে। যেমনঃ
১.দারিদ্র্যতা
২.জনসংখ্যা বৃদ্ধি
৩.নিরক্ষরতা
৪.সামাজিক বাঁধা
৫.সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব
৬.বেকারত্ব প্রভৃতি।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমস্যার সমাধান
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্যার সমাধান করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন হওয়া।সমাধান সমূহঃ
১.নিরক্ষরতা দূর করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া।
২. বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
৩. দারিদ্র্যতা দূরীকরণ।
৪.সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৫.অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি মোকাবেলা করা।
৬. সল্প আয়ের সুষ্ঠু ব্যয়ের পরিকল্পনা করা।
কিভাবে আর্থিক পরিকল্পনা ভবিষ্যতে সাহায্য করতে পারে
একটি সুষ্ঠু আর্থিক পরিকল্পনা যে কোন মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর ও সুরক্ষিত করতে পারে। ভবিষ্যতে মানুষ কি ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে পারে তা কেউ জানে না। মানুষ হঠাৎ করে অসুস্থ হতে পারে, কর্মক্ষেত্রে উপার্জন ক্ষমতা কমে যেতে পারে বা যে কোন দূর্ঘটনার শীকার হতে পারে। এ সময় আর্থিক পরিকল্পনা প্রনয়নের ফলে সঞ্চয়কৃত অর্থ ভবিষ্যতে মূখ্যভাবে সাহায্য করবে। আর্থিক সঞ্চয় হলো বিপদকালীন বন্ধু।
সঞ্চয় কি?
সাধরণত সঞ্চয় হলো আয় হতে সকল ধরনের খরচ বাদ দিয়ে যা অবশিষ্ট অংশ থাকে তাই। সঞ্চয় হচ্ছে আয়ের একটি অংশ যা বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে জমিয়ে রাখা।
বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে।যেমনঃ
১.সঞ্চয়পত্রঃ- এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ৫ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
২. ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র গৃহীত হয়েছে।
৩. পরিবার সঞ্চয়পত্র।
৪. পেনশনার সঞ্চয়পত্র সমূহ গৃহীত করা হয়েছে।
সঞ্চয়বন্ডঃ- ১.বাংলাদেশের প্রাইজবন্ড।
২.ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড।
৩. ইউ এস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড।
৪. ইউ এস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড।
ডাকঘর সঞ্চয় বন্ডঃ-১. ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক -সাধারণ হিসাব।
২.ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক - মেয়াদী হিসাব।
৩. ডাক জীবন বীমা ও অ্যানুইটি প্রভৃতি।
আপনার জন্য সঞ্চয় অথবা বিনিয়োগ কোনটি উত্তম ?
নির্দিষ্ট আয় থেকে প্রতি মাসের সকল খরচ মেটানোর পরে কিছু পরিমান অর্থ সঞ্চয়ের জন্য প্রতিটি কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্কের এক প্রকার লড়াই করতে হয়।জমানো এই অর্থ দিয়ে আপনি আপনার অধিক খরচের দিনগুলোতে আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ দিনগুলো সুন্দর ও সুরক্ষিত করতে পারেন। তাই সকলের উচিত মাসের শুরুতে আয় ও ব্যায়ের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা। আয়কৃত অর্থ নিরাপদে জমিয়ে রাখার অন্যতম উপায় হলো একটি সঞ্চয়ী একাউন্ট খোলা। এই সঞ্চয়ী একাউন্টগুলো অনেক সহজ স্বাভাবিক ও সরল প্রকৃতির, এতে জমাকৃত অর্থের ওপর ঝুঁকি কম থাকে আর লাভও মাঝারি আকারের। আর অন্য উপায়টি হলো কষ্টার্জিত অর্থের বিনিয়োগ করা।বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় অর্থ নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে ঝুকিপূর্ণ বিনিয়োগই বেশি রিটার্ন সরবরাহ করে। কোন উপায়টি আপনার জন্য উত্তম তা নির্ভর করে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর।যেমনঃ-
১.ঝুঁকি সহনশীলতা
২.অভীষ্ট লক্ষ্য
৩.শুরুতে কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন
৪.আপনার বর্তমান বয়স কত।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগ এই দুই উপায়ের জন্যই মানুষ অর্থ বরাদ্দ করতে পারে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনার অতিরিক্ত অর্থ আপনি সঞ্চয় করবেন নাকি বিনিয়োগ করবেন তা সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কঠিন।
বাংলাদেশের জিডিপি তে বিভিন্ন খাতের অবদান
বাংলাদেশের জিডিপি মূলত তিনটি খাতের সমন্বয়ে গঠন করা হয়। এই খাতগুলো হলো কৃষিখাত, শিল্পখাত এবং সেবাখাত। জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান হলো সেবাখাতের গত অর্থ বছরে ৫৩.৬২ শতাংশ। শিল্পে ৩০.৪২ শতাংশ এবং কৃষিখাতের অবদান ১৫.৯৬ শতাংশ। জিডিপি হিসাব করতে গিয়ে ১৫ টি খাত ও উপখাতের বাজারমূল্য হিসাব করা হয়। বাৎসরিক হিসাবের জিডিপি কে প্রবৃদ্ধি বলা হয়। গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বাজার মূল্যে বাংলাদেশের জিডিপি এর আকার ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০০৫- ০৬ ভিত্তি ধরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ ও ভিশন ২০৪১ সম্পর্কে গৃহীত পরিকল্পনা
ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপকল্প ২০২২ এর সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় সরকার এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য অত্যাধুনিক পাওয়ার গ্রিড,গ্রিন ইকোনমি, দক্ষতার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে স্বীকৃতি প্রদান ও নগর উন্নয়নে কাজ করছে।হার্ডওয়্যার ও হিউম্যানওয়ার কে একসাথে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বাংলাদেশ।
সার্বজনীন পেনশন স্কিম
সার্বজনীন পেনশন স্কিম হলো বাংলাদেশ সরকারের অবসরভাতা উদ্যোগের একটি ব্যবস্থা। একজন নাগরিকের বয়স ও অবদানের ভিত্তিতে নির্ভর করে এই সুবিধার তারতম্য হয়ে থাকে। যার যত বেশি অবদান তার তত বেশি পেনশন। ২০২২ সালের ১৭ ই ফেব্রুয়ারী দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ওপর একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন এবং দ্রুত সম্ভব এই পেনশন ব্যবস্থার ওপরে আইন প্রনয়ণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সার্বজনীন পেনশন স্কীমের আইনের খসড়া প্রকাশিত হয়। অর্থমন্ত্রী আা হ ম মোস্তফা কামাল ৯ জুন ২০২২ সালে ঘোষণা করেন যে ২০২৩ সালে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য “জাতীয় পেনশন কতৃপক্ষ “ গঠন করা হয়। সার্বজনীন পেনশন স্কীম জুলাই ২০২৩ সালে চালু হওয়ার কথা ছিলো। তবে পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট ২০২৩ সালে চালু হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সার্বজনীন পেনশন স্কীমের উদ্ভোদন করেন।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। সাধারণত একটি দেশের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশে এই পরিকল্পনা গুলো ৫ বছরের জন্য তৈরি করা হয়। ৫ বছরের জন্য তৈরি করা হয় তাই একে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বলা হয়। ১৯৭২ সালে “বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন” গঠনের পর দেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।এই কমিশন ১৯৭৩ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ করেন। বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার নির্ধারিত সময়সীমাঃ-
১. প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা – ( ১৯৭৩-১৯৭৮) সাল।
২.দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৮০-১৯৮৫) সাল।
৩. তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৮৫-১৯৯০) সাল।
৪. চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৯০ -১৯৯৫) সাল।
৫.পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–(১৯৯৭-২০০২) সাল।
৬.ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–( ২০১১-২০১৫) সাল।
৭.সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা-( ২০১৬-২০২০) সাল।
৮.অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা–( ২০২০-২০২৫) সাল পর্যন্ত।
সঞ্চয় ভবিষ্যতের সম্পদ
বর্তমানের সঞ্চয় আগামী ভবিষ্যতের সম্পদ। ভবিষ্যতে কোন ধরনের বিপদ আপদ ও আর্থিক ভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সঞ্চয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
_20241105_095042_0000.png)
0 Comments