ইন্টারনেট নিরাপত্তা থাকার উপায়

 

ইন্টারনেট নিরাপত্তা থাকা উপায় কাকে বলে? 

ইন্টারনেট নিরাপত্তা মানে ই নিরাপত্তা নামে পরিচিত, সেই নীতি, অনুশীলন এবং প্রক্রিয়াগুলোকে বোঝায় যা তথ্যপ্রযুক্তি ভুল ব্যবহার দ্বারা সক্ষম লোকেদের ক্ষতি কমায়। যেহেতু বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগত  বৃদ্ধি পাচ্ছে ইন্টারনেট সরকার এবং সংস্থাগুলি ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিশু এবং কিশোর এবং বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে ওর কাজ করেছে 45%এরও বেশি ঘোষণা করেছে যে তারা এরকম সাইবার হয়রানি সহ্য করেছে। ইন্টারনেট সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে  ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়। 

ইন্টারনেট নিরাপত্তা প্রয়োজনে ও এবং বৈধ কারণ অনেক ব্যবসা ইন্টারনেট অতিরিক্ত আক্রমণ সম্মুখীন হয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে একজনে জীবন হারানো হয়েছে আত্মহত্যা করা হয়েছে।ব্যবসা এবং প্রতিষ্ঠানের উপর সাইবার একটি ক্রম বর্ধমান প্রবণতা হয়ে উঠেছে এবং আফ্রিকাকে ছাড় দেওয়া হয়নি । প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা আয় এবং ক্লায়েন্ট  বিশ্বাসে সবে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।

ইন্টারনেট নিরাপত্তা থাকার দশটি উপায় কি কি?

1.শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা :ইন্টারনেটে নিরাপত্তা থাকা প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। পাসওয়ার্ডটি এমন হওয়া উচিত যা অনুমান করা যায় না। পাসওয়ার্ডটি বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্ট  ব্যবহার করবেন না  এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। 

2.নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা :আপনার কম্পিউটার smartphone এবং অন্যান্য ডিভাইস সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন সফটওয়্যার আপডেট গুলো সাধারণ নিরাপত্তা সংশোধন নিয়ে আসে যা আপনার ডিভাইসকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। 

3.ফায়ারওয়াল এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা :ফায়ার অয়েল অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইন্টারনেট নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ফায়ারওয়াল আপনার ডিভাইসকে অনাকাঙ্ক্ষিত অ্যাক্সেস থেকে রক্ষা করে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাস সনাক্ত ও নির্মূল করে। 

4.পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে বিরতি থাকা :পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলোসাধারণ  নিরাপত্তাহীন হয় এবং হ্যাকারদের জন্য সহজ লক্ষ্য হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে বিরক্তি থাকুন এবং দুটি ব্যবহার করতে হয় তবে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। 

5:সন্দেহ জন ইমেইল এবং লিঙ্ক থেকে সতর্ক থাকা :ফিশিং আক্রমণ হলো এমন একটি কৌশল যেখানে হ্যাকাররা মিথ্যা ইমেইল বা লিংক পাঠিয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার চেষ্টা করে। সন্দেহজনক ইমেল বা লিংক থেকে সতর্ক থাকুন এবং ক্লিক  করার আগে যাচাই করুন। 

6:সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা :সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার সময় সতর্ক থাকুন। আপনার ফোন নাম্বার জন্ম তারিখ ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এসব তথ্য হ্যাকারদের জন্য সহজ লক্ষ্য হতে পারে। 

7:নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা :নিয়মিত আপনার ডেটা ব্যাকআপ রাখুন। এটি নিশ্চিত করবে যে আপনার ডেটা সাইবার আক্রমণ শিকার হলেও আপনি তা পুনরুদ্ধন করতে পারবেন। 

8.এনক্রিপশন ব্যবহার করা :আপনার সংবেদনশীল তথ্য এনক্রিপশন করুন। এনক্রিপশন আপনার তথ্যকে কেবল মাত্র অনুমোদিত ব্যক্তির জন্য প্রবেশযোগ্য  করে তোলে এবং হ্যাকারদের জন্য কঠিন করে তোলে। 

9.অনলাইন কেনাকাটায় সতর্ক থাকা :অনলাইন কেনাকাটা করার সময় নিরাপত্তা ওয়েব সাইট থেকে কেনাকাটা করুন। ওয়েবসাইটটির "URL https://" দিয়ে নিশ্চিত করুন, যা নির্দেশ করে ওয়েব সাইটটি সুরক্ষিত রাখে। 

10.ব্রাউজার নিরাপত্তা সেটিংস পরিবর্তন করা :আপনার ব্রাউজার নিরাপত্তা সেটিংস পরিবর্তন করে সুরক্ষিত করুন। পপ আপ ব্লকার সক্রিয় করুন এবং কুইজ ম্যানেজ করুন। 

ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সকলের জন্য অপরিহার্য। উপরিক্ত টিপস গুলো মেনে চললে আপনি ইন্টারনেট নিরাপত্তা থাকতে পারবেন এবং সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন। সঠিক সচেতনতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেটকে একটি নিরাপত্তা স্থান করে তুলতে পারে।

ইন্টারনেট  ব্যবহার সতর্কতা কি?

সন্দেহ হলেই বাদ দিন: ইমেইলে পাঠানো ওয়েবলিঙ্ক, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট এবং অনলাইন বিজ্ঞাপনগুলোর মাধ্যমে প্রায়ই সাইবার অপরাধীরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির চেষ্টা করে। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় এসবের কোনো কিছুতে আপনার সন্দেহ হলে ক্লিক না করে মুছে দিন।

ইন্টারনেট নিরাপদ থাকার কিছু মৌলিক  উপকরণ? 

আপনার কম্পিউটার সুরক্ষা

১।  নিরাপত্তা সফটওয়্যার: আপডেটেড নিরাপত্তা সফটওয়্যার (এন্টি ভাইরাস), ওয়েব ব্রাউজার ও অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুন। এগুলো ভাইরাস, ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য অনলাইন হুমকিগুলির বিরুদ্ধে আপনাকে সুরক্ষা দেবে।

২।  স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার আপডেট: পরিচিত ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়্যার নিজ থেকে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট সার্ভার থেকে হালনাগাদ হয়। এজন্য আপনার সফটওয়্যারগুলোর ‘অটো আপডেট’ অপশন চালু রাখুন।

৩।  ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত সব ডিভাইস সুরক্ষিত করুন: কম্পিউটার, স্মার্টফোন, গেমিং সিস্টেম এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ডিভাইসগুলোরও ভাইরাস থেকে সুরক্ষার প্রয়োজন।

৪। প্ল্যাগ ও স্ক্যান: ইউএসবি প্ল্যাগ এবং অন্যান্য বহিরাগত ডিভাইসের মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে। সেগুলো স্ক্যান করার জন্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার বলতে বোঝায় সাইবার হামলাকারীদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে সংরক্ষণ করা, হ্যাকারদের থেকে ইমেইল, ফেইসবুক নিরাপদ রাখা, ডিভাইসের সব তথ্য গোপনীয় রেখে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট ব্যবহার করা। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে, সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবককে সচেতন থাকতে হবে, এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, অপ্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ ইন্টারনেটে নিরাপদ নয়। কাজেই, ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ সুবিধার মাধম্যে শিশুর জন্য অনুপযুক্ত বা আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করে রাখতে হবে। এছাড়া ‘ইউটিউব কিডস’ নামে ইউটিউবের একটি সংস্করণ আছে শিশুদের জন্য, সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, স্ক্রিনিং টাইম নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে তারা নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ইচ্ছে করলেও ইউটিউব স্ক্রিন করতে পারবে না।

অনিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে সহজেই ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার হামলাকারীরা হাতিয়ে নিতে পারে, যার ফলে ব্যবহারকারীকে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। শিশু-কিশোররা সহজে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে যেতে পারে। সহজে অনলাইনে জুয়া খেলা, অনলাইন গেইমে (যেমন—পাবজি, ফ্রি ফায়ার ইত্যাদি) আসক্ত হয়ে যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে তরুণ সম্প্রদায় বিপথগামী হচ্ছে, মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, মাঠে খেলাধুলা ছেড়ে দিয়ে দিনরাত ইলেকট্রনিক ডিভাইসে পড়ে থাকছে। ইউটিউব, ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম, পাবজি, ফ্রি ফায়ার, ফিফা ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। । এসবের আসক্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃসঙ্গতা-একাকিত্বের অনুভূতিও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিল রিড বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের অতিরিক্ত নেশা আছে, তারা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার বা অন্যান্য সফটওয়্যার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপডেট করে নিতে হবে। অনলাইনে ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল নাম্বার, বাসার অ্যাড্রেস এসব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কম্পিউটার, মুঠোফোনের পাশাপাশি ইমেইল কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ( ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম) শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে—পাসওয়ার্ড হতে হবে ইউনিক। নিজের নাম কিংবা সহজে অনুমান করা যায় এরকম পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করাই ভালো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত বা অপরিচিত কারো সঙ্গেই নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কোনো তথ্য (পাসওয়ার্ড, ছবি কিংবা ভিডিও) শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এতে পরবর্তী সময়ে বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতেচন হতে হবে। অপরিচিত স্থানে ওয়াই-ফাই সংযোগ না দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সাইবার ক্যাফে বা এ ধরনের পাবলিক প্লেসে কাজ শেষে সঙ্গে সঙ্গে লগ আউট করে ফেলতে হবে। প্রয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই মুঠোফোনের ব্লুটুথ ও জিপিএস ফিচার বন্ধ রাখতে হবে। কেননা, এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লটারি বা বিভিন্ন পুরস্কারের প্রলোভনে পাঠানো ইমেইল বা বার্তা খোলা যাবে না। এ ধরনের বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে নানা ধরনের পুরস্কারের প্রলোভন দিয়ে মূলত ব্যবহারকারীর যন্ত্রে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস পাঠিয়ে সাইবারসাইবার হামলা চালানো হয়ে থাকে।

Post a Comment

0 Comments