সোনালী আঁশ খেজুরের গুড়, আমার প্রিয় শিবচর মাদারীপুর




হাজী শরীয়ত উল্লাহ 

তিনি ছিলেন নীলকর এবং সামন্ত বিরোধী নেতা। তার ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে সমাজের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ যেমন জেলে, তাঁতী, কৃষক এবং অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষকে শোষনের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য। 
  • ফরায়জী আন্দোলনঃ হাজী শরীয়ত উল্লাহ সর্ব প্রথম ওয়াহাবি আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।এরপর ফরায়েজী আন্দোলনের সূচনা ঘটে। তখনকার সময়ের মানুষ বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার,  অনাচার, অইসলামিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকতো। নামাজ রোজা করতে চাইতো না। তখন হাজী শরীয়ত উল্লাহ তাদের সঠিক ইসলামের ধর্মীয় পথে আনার চেষ্টা করেন। ইসলামের বিধিমালা আমাদের জন্য ফরজ তাই সেখান থেকেই এই আন্দোলনের নাম হ ফরায়জী আন্দোলন। 
  • সম্মাননাঃ হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর জেলার নামকরণ। করা হয়েছে। শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর যে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছে তাও হাজী শরীয়ত উল্লাহ এর নামানুসারে করা" হাজী শরীয়ত উল্লাহ সেতু"।১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামে ডাক টিকিট বের করেন।

অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা। শিবচর কে বাংলাদেশের স্মার্ট উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমালে ১৯৩০ সালে শিবচর থানা গঠন করা হয়েছে। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে উপজেলায় পরিনত হয়।

শিবচর উপজেলার নামকরণ 

শিব শংকর দাশ নামক একজন ধর্ম উপাসক পূর্বে এখানে বসবাস করতেন। তিনি হিন্দু হলেও সব ধর্মের জন্য তিনি সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তখন তার নাম অনুসারে শিবচরের নামকরণ করা হয়েছে। 

ভৌগোলিক অবস্থান

শিবচর উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান ২৩°১৫' থেকে ২৩°৩০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°১৫' থেকে৷ ৯০°১৭' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।  শিবচর উপজেলার ওপর দিয়ে পদ্মা নদী, কুমারখালি নদী, ময়নাকাটা ও আড়িয়াল খাঁ নদী প্রবাহিত হয়েছে। 

প্রশাসন ব্যবস্থা 

১৮৫৪ সালে সৃষ্টি মাদারীপুর মহুকুমার অধীনে ১৯৩০ সালে বরহারাগঞ্জ থানা গঠন করা হয় যা  পরবর্তীকালে শিবচর নামে পরিবর্তীত  হয়। ১৯৮৪ সালে মাদারীপুর জেলা হিসেবে এটি স্বীকৃতি পায় এবং শিবচর থানা হিসেবে। 


শিবচরের সংস্কৃতি 

শিবচর উপজেলা গ্রামীণ ঐতিহ্যের এবং সাংস্কৃতিক দিকে এগিয়ে রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, বিভিন্ন মেলা, ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিয়েতে ডুলি বাজানো, পালকির প্রচলন, শিবচরের বিশেষ গাজীর গান,ধুয়া গান,বাউলগান, প্রবাদ প্রবচন প্রভৃতি। 


শিবচরের শিক্ষা ব্যবস্থা 

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা শিক্ষার দিকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা লাভের জন্য বিদ্যালয়ে পাঠান এবং শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করেন।এখানে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমনঃ


১১৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

৫৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

১১টি কমিউনিটি বিদ্যালয়। 

৪৮ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। 

১৯ টি মাদ্রাসা। 

৫ টি কলেজ।

২ টি কারিগরি কলেজ। 


মাদারীপুর জেলার নামকরণ 


পন্ঞদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত সাধক ও ইসলাম প্রচারক হযরত বদরুদ্দিন শাহ্ মাদার (রঃ) এর নামানুসারে মাদারীপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে। 


পূর্ব নাম


মাদারীপুর জেলার পূর্ব নাম ছিলো ইদিলপুর।



মাদারীপুর জেলা সম্পর্কিত কিছু তথ্য

যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ---- পদ্মা।

জেলা প্রতিষ্ঠা ----১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ লা মার্চ। 

মহকুমা প্রতিষ্ঠা -----১৮৫৪ খ্রীস্টাব্দ।

আয়তন------১,১২৫.৬৯ বর্গ কিলোমিটার। 

সীমানা-----উত্তরে ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলা,

 পূর্বে শরিয়তপুর জেলা, পশ্চিমে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জেলা অবস্থিত।

ঢাকা থেকে দূরত্ব -----সড়কপথে ২১৮ কিলোমিটার। 

জনসংখ্যা -----১২,৯৩,০২৭ জন (২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহ গননা অনুযায়ী। 

জনসংখ্যার হার----১,১৪৯ জন (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)। 

শিকার হার----৭৪.৭৩%


মাদারীপুরের ইউনিয়ন সংখ্যা 


মাদারীপুর জেলায় মোট ৫৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। 


মাদারীপুর জেলার উপজেলাসমূহ


মাদারীপুর জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা ৫ টি। যেমনঃ

মাদারীপুর সদর।

কালকিনি

শিবচর 

রাজৈর

শিবচর 

ডাসার(নব নির্বাচিত উপজেলা)। 

মাদারীপুর জেলার গ্রামের সংখ্যা 


মাদারীপুর জেলার মোট গ্রামের সংখ্যা ১,১০৮ টি।



রাজনৈতিক ক্ষেত্রে


শিবচর উপজেলার সংসদীয় আসন হলো "মাদারীপুর -১" আসন।এবং এর সংসদ সদস্য মাননীয় চিপ হুইপ জনাব নুর- ই - আলম চৌধুরী (লিটন) এমপি মহোদয়। 



সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ


মাদারীপুর জেলার অনেক গুনী ব্যাক্তিবর্গ রয়েছে যারা সারা দেশের মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয় ও চেনা মুখ। তাদের প্রতিভা ব্যাখ্যা করা বাহুল্য। তারা মাদারীপুর জেলার গর্ব। যেমনঃ

বাংলা সাহিত্যের মধ্য যুগের  বিখ্যাত কবি সৈয়দ আলাওল। তিনি ১৬০৭ সালে মাদারীপুর জেলার ফতেয়াবাদে জন্মগ্রহন করেন।

প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার মাইজপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

সংগীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস। 

বেগম রাজিয়া মাহবুব। তিনি সাহিত্যের জন্য ইউনেস্কো কতৃক পুরষ্কার ( ১৯৫৭)  লাভ করেন।এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরষ্কার (১৯৮১) প্রাপ্ত। 




মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ


হাজী শরীয়ত উল্লাহ। তিনি ছিলেন একজন ধর্ম সংস্কারক এবং ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা।তিনি ১৭৮০ সালে শিবচর উপজেলার বাহাদুর পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১৮৪০ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

পীর মহসীন উদ্দীন (দুদু মিয়া)। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ফরায়জী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর  উপজেলায় (১৮১৯ সালে) জন্মগ্রহণ করেন।      

আব্দুল খালেদ রশিদ চৌধুরী। তিনি ১৮৮৪ সালে শিবচর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ। 

ড.ফজলুর রহমান খান (এফ আর খান)। তিনি মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরষ্কার (১৯৯৯) প্রাপ্ত। এছাড়াও তিনি একজন স্থপতি এবং প্রকৌশলী । তিনি পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম ভবন শিকাগোর " সিয়ার্স টাওয়ার " (বর্তমানে উইলস্ টাওয়ার)  এর নঁকশা প্রনয়ণ করেন। তিনি ১৯২৯ সালে শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


শিবচর উপজেলার কয়েকজন রাজনীতিবিদ 


মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই)। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালীন  সময়ের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন ও ২০২৩ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার খেতাব লাভ করেন।

জনাব নুর ই আলম চৌধুরী। চিপ হুইপ জাতীয় সংসদ সদস্য (মাদারীপুর -আসন ০১)।

আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন খান। 

জনাব রেজাউল করিম তালুকদার। আলহাজ্ব জনাব মোঃ শাহজাহান মোল্লা (আওয়ামী লীগ সভাপতি ও শিবচর থানা কমান্ডার)। 

আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ মোল্লা। 




 মাদারীপুর জেলার ও শিবচরের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা


জনাব দেলোয়ার হোসেন। 

জনাব ফিরোজ খান।

মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই)। 

জনাব নুর ই আলম চৌধুরী। 

মোসলেম উদ্দিন খান ( ৭ থানার কমান্ডার)  

আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান মোল্লা (শিবচর থানা কমান্ডার)। 

জনাব রেজাউল করিম তালুকদার। 





মাদারীপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত ? 


পূর্বে মাদারীপুর জেলা খেজুরের রস, খেজুরের গুড়, তাল এসবের জন্য বিখ্যাত ছিলো। এছাড়াও সোনালী আঁশ পাট, ধান, গম, পিঠাপুলির জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলো। এখন বর্তমানে পাট চাষের জন্য এবং বিদেশি রেমিট্যান্স এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাদারীপুর জেলা এগিয়ে রয়েছে। 



শিবচরের কিছু দর্শনীয় স্থান 


শিবচর উপজেলায় সুন্দর কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে যেমনঃ ময়ানাকাটা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদী, রবীন্দ্র সরোবর, শিবচর উপশহর, লালনমঞ্চ প্রভৃতি। 



  শিবচর উপজেলা সবুজে ঘেরা এক অপরুপ সৌন্দর্যের স্থান। এখানে সবুজ সতেজ পরিবেশ যে কোন মানুষকে আকৃষ্ট করবে। এখানকার রাস্তা ঘাট খুব সুন্দর। 


 


ড.ফজলুর রহমান খান (এফ আর খান)

পুরষ্কার ও সম্মাননাঃ ড.ফজলুর রহমান খান "আগা খান এ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার" পুরষ্কার লাভ করেন। এবং স্বাধীনতা দিবস  পুরষ্কার লাভ করেন।
অবদানঃ শিবচরের কৃতি সন্তান ড.ফজলুর রহমান বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তার অসামান্য অবদান রেখেছেন। যথাঃ
১.শিকাগো শহরের অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ টাওয়ার "সিয়ার্স টাওয়ার (Sears  Tower)  এর নঁকশা প্রনয়ণ করেন। 

২. জন হ্যানকম সেন্টার এর নঁকশা প্রনয়ণ করেন যার উচ্চতা ১০০ তলা।

৩. হজ্ব টার্মিনালের ছাদ কাঠামোর নির্মাণ করেন যার উচ্চতা (৫০,০০০) বর্গফুট। 

৪.জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নঁকশা করেন। 

৫.বাদশা আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের  স্থাপত্য নঁকশা প্রনয়ণ করেন।

Post a Comment

0 Comments