ফরায়েজী আন্দোলনের কর্নধার হাজী শরীয়ত উল্লাহ



 হাজি শরিয়তউল্লাহ ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা, সমাজসংস্কারক এবং ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ শাসন ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রবর্তক। তিনি বাংলার মুসলমান সমাজকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক পুনর্জাগরণ ঘটানোর জন্য কাজ করেন। তার উদ্যোগেই "ফরায়েজি আন্দোলন" নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারমূলক আন্দোলনের সূচনা হয়।


নিচে হাজি শরিয়তউল্লাহর জীবন ও কাজের বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হলো


প্রারম্ভিক জীবন

হাজি শরিয়তউল্লাহর জন্ম ১৭৮১ সালে বর্তমান বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাহাদুর পুর গ্রামের তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  বাবা ছিলেন একজন ধর্মপরায়ণ কৃষক। তিনি ছোটবেলা থেকেই ইসলামিক শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অধ্যয়ন করেন।

হাজি শরিয়ত উল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত


বাবা মা

ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর বাবার নাম ছিলেন আব্দুল জলিল তালুকদার আর মায়ের নাম ছিলেন মহুরী বিবি।

সন্তান-সন্তুতি:

হাজি শরিয়ত উল্লাহ এর সন্তান পীর মোহসীন উদ্দীন (দুদু মিয়া)। তিনি তার পিতা হাজী শরীয়ত উল্লাহ এর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাবার দেখানো পথে ফরায়েজি আন্দোলন চালিয়ে যান।

হাজি শরিয়ত উল্লাহ সেতু:

হাজি শরিয়ত উল্লাহ সেতু হলো মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এটি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় অবস্থিত আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মান করা হয়েছে যা ৪৫০ মিটার দীর্ঘ। বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে।


শরিয়ত উল্লাহর অবদান:

1. তিনি বাংলার মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় পুনর্জাগরণ ঘটান।

2. ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।

3. মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা সৃষ্টি করেন।


দুইজন ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা:

1. হাজি শরিয়ত উল্লাহ

2. দুদু মিয়া


শরীয়তপুরের নামকরণ:

শরীয়তপুরের নামকরণ হাজি শরিয়ত উল্লাহর নামে করা হয়েছে। তাঁর অবদান এবং প্রভাবকে সম্মান জানাতে এ জেলাটি তাঁর নাম অনুসারে নামকরণ করা হয়।


ফরায়েজি আন্দোলনের অবস্থান:

ফরায়েজি আন্দোলন মূলত পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) ফরিদপুর, বরিশাল, এবং ঢাকায় বিস্তৃত ছিল।


পীর মোহসীন উদ্দিন(দুদু মিয়া):

পীর মোহসীন উদ্দিন ফরায়েজি আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি হাজি শরিয়ত উল্লাহর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন এবং এটি চালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।


মক্কা গমন ও হজ পালন

১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে, হাজি শরিয়তউল্লাহ মক্কায় গমন করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন এবং ইসলামের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ইসলামিক শরীয়াহ আইন এবং আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে ব্যাপক শিক্ষা লাভ করেন। মক্কায় থাকাকালীন তিনি "তাওহীদ" বা একেশ্বরবাদ ও ইসলামের মূল শিক্ষার প্রতি গভীর মনোযোগ দেন। মক্কায় ২০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করার পর তিনি ১৮১৮ সালে বাংলায় ফিরে আসেন।

হাজী শরীয়ত উল্লাহ যে বিষয়ে সোচ্চার হন:

ধর্মীও সংস্কার, নীলকর ও সামন্তবাদ বিরোধী নেতা এবং ভারতবর্ষের সংঘটিত ফরায়েজি আন্দোলনের মুখপাত্র হাজী শরীয়ত উল্লাহ। তিনি শুধু ধর্মীয় সংস্কারক ছিলেন না বরং তিনি কৃষক, তাঁতী,জেলে এবং অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষকে বৃটিশ শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য সোচ্চার হোন।


ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা

হাজি শরিয়তউল্লাহ বাংলায় ফিরে এসে দেখেন যে, এখানকার মুসলমানরা ধর্মীয় দিক থেকে বিভ্রান্ত এবং তাদের জীবন পদ্ধতিতে নানা ধরনের কুসংস্কার প্রবেশ করেছে। মুসলমানরা ব্রিটিশ শাসক ও হিন্দু জমিদারদের দ্বারা শোষিত হচ্ছিল। তিনি এই অবস্থা থেকে মুসলমানদের মুক্ত করার জন্য ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করেন।

হাজী শরীয়ত উল্লাহর আন্দোলন কে "ফরায়েজি আন্দোলন" নামকরণের কারনঃ

তিনি মুসলমানদের মাঝে দিনে দিনে যে ধর্মীয় কুসংস্কার প্রবেশ করেছে তা উচ্ছেদ করে তাদের ইসলামের মূল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অনেকে ধারনা করেন তিনি ওয়াহাবি আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলো। ইসলামের প্রধান করনীয় কাজকে "ফরজ" বলা হয়। আর এই চিন্তা থেকেই তার সংস্কার এর নামকরণ করা হয়েছে "ফরায়েজি আন্দোলন "।

ফরায়েজি আন্দোলনের উদ্দেশ্য 

ফরায়েজি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলার মুসলমান সমাজে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শুদ্ধি আনা। এই আন্দোলন ১৯শ শতকের প্রথম দিকে হাজি শরিয়তউল্লাহর নেতৃত্বে শুরু হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামের প্রকৃত আদর্শ অনুসরণ এবং অনৈসলামিক প্রথা ও কুসংস্কার দূর করা। নিচে ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরা হলো:

১. ইসলামি শুদ্ধি প্রতিষ্ঠা

ফরায়েজি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি শরিয়াহর পূর্ণ অনুসরণ নিশ্চিত করা। মুসলমানদেরকে ইসলামের মূল শিক্ষা এবং ফরজ (বাধ্যতামূলক) বিষয়গুলো পালন করতে উদ্বুদ্ধ করা ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

২. বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই

বাংলার মুসলমান সমাজে তখন বিভিন্ন হিন্দু প্রভাবিত রীতি এবং বিদআত (ইসলামের নামে অনৈসলামিক কার্যকলাপ) প্রচলিত ছিল। হাজি শরিয়তউল্লাহ এসবের বিরোধিতা করেন এবং মানুষকে কুসংস্কার ও ভুল প্রথা ত্যাগ করতে আহ্বান জানান।

৩. সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা

সমাজে জমিদার ও ব্রিটিশ শাসকদের শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ফরায়েজি আন্দোলন সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে কৃষকদের অধিকার রক্ষা করতে চেয়েছিল। জমিদারদের অত্যাচার, অতিরিক্ত কর এবং ঋণ শোষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।

৪. মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা

বাংলার মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন ও দারিদ্র্যের কারণে ঐক্য নষ্ট হচ্ছিল। ফরায়েজি আন্দোলন এই বিভেদ দূর করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল।

৫. নৈরাজ্যের অবসান

সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনের পথে পরিচালিত করা ছিল এর আরেকটি উদ্দেশ্য।

৬. ব্রিটিশ শাসনের পরোক্ষ বিরোধিতা

যদিও সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়নি, তবে ফরায়েজি আন্দোলন ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করার এবং তাদের চাপানো করব্যবস্থা উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিল।

ফরায়েজি আন্দোলন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আন্দোলন নয়, বরং এটি ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। এটি বাংলার মুসলমানদের মধ্যে নতুন আশা ও সাহস জাগিয়েছেন।

ধর্রমীয় অনুপ্রেরনা

 আন্দোলন ১৯শ শতকের একটি ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলন ছিল, যা বাংলার মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের মূল শিক্ষায় ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিল। এই আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ। 

কৃষকদের দাবি আদায়

এই আন্দোলন দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। জমিদারদের অন্যায় ভাবে কর আদায় এবং শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে যা পরবর্তীতে বিদ্রোহের ভিত্তি স্থাপিত হয়। 

সংঘবদ্ধতা:

এটি মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতার বোধ তৈরি করে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংঘবদ্ধ করতে সাহায্য করে। 

ফরায়েজি আন্দোলন শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।


সমাজ সংস্কারে ভূমিকা

হাজি শরিয়তউল্লাহ শুধু ধর্মীয় পুনর্জাগরণে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি সমাজের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।


১. সামন্ততান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম:

তৎকালীন জমিদার ও ব্রিটিশ শাসকরা কৃষকদের উপর অত্যাচার চালাতো। মুসলমান কৃষকদের ওপরো করের বোঝা চাপিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করে দিত। হাজি শরিয়তউল্লাহ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করেন।


২. ধর্মীয় সংস্কার:

মুসলিম সমাজের ভেতরে ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার দূর করার জন্য তিনি সরাসরি কাজ করেন। ইসলামের মূলনীতির উপর ভিত্তি করে সমাজকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন।

৩. নারী অধিকার:

তিনি নারীদের প্রতি সমাজের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরোধিতা করেন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দেন।

৪. রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি

ফরায়েজি আন্দোলনের মাধ্যমে হাজি শরিয়তউল্লাহ বাংলার মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা জাগ্রত করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, ব্রিটিশ শাসন এবং জমিদার শ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। ফরায়েজি আন্দোলন একদিকে যেমন ধর্মীয় আন্দোলন ছিল, তেমনই এটি একটি রাজনৈতিক আন্দোলনও ছিল।


৫.ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান:

হাজি শরিয়তউল্লাহ ব্রিটিশ শাসনের নীতি এবং তাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্রিটিশ শাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সমাজের শোষণ এবং শাসনের মাধ্যমে তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা।


৬. আদালতের পরিবর্তে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা:

তিনি ব্রিটিশ আদালতের পরিবর্তে মুসলিম পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন, যা গ্রামীণ জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ ছিল।

৭.চ্যালেঞ্জ ও বাধা

হাজি শরিয়তউল্লাহর আন্দোলন ব্রিটিশ শাসক ও জমিদারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।


১. ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া:

ব্রিটিশ সরকার ফরায়েজি আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করে। তারা হাজি শরিয়তউল্লাহর অনুসারীদের উপর নানা ধরনের শাস্তি আরোপ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়।

২. জমিদারদের প্রতিক্রিয়া:

জমিদার শ্রেণি ফরায়েজি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, কারণ এটি তাদের শোষণের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছিল।

৩. সামাজিক প্রতিরোধ:

সমাজের অভ্যন্তরীণ কিছু গোষ্ঠীও ফরায়েজি আন্দোলনের বিরোধিতা করে, কারণ এটি তাদের প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কারের বিপরীতে অবস্থান নেয়।


মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৮৪০ সালে হাজি শরিয়তউল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে হাজি মহসিনউদ্দিন আহমেদ দাদাভাই (দুদু মিঞা) ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে এই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।


হাজি শরিয়তউল্লাহর উত্তরাধিকার শুধু ধর্মীয় পুনর্জাগরণে সীমাবদ্ধ নয়। তার আন্দোলন বাংলার মুসলমানদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

হাজি শরিয়তউল্লাহর অবদান

১. বাংলার মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় পুনর্জাগরণ ঘটানো।

২. ব্রিটিশ ও জমিদার শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।

৩. কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম।

৪. সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে নতুন জীবনযাত্রার প্রচলন।


হাজি শরিয়তউল্লাহর জীবন ও কাজ বাংলার মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় পুনর্জাগরণ ও সামাজিক সংস্কারের একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। তিনি দেখিয়েছেন, সঠিক শিক্ষা, সংগঠন এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সমাজকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

পুরস্কার ও সম্মাননা:

১৯৯৩ সালের ১০ মার্চ বাংলাদেশের ডাক বিভাগ হাজী শরীয়ত উল্লাহ এর নামে একটি ডাক টিকিট বের করেন।এছাড়াও তার জীবনী নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এতে হাজী শরীয়ত উল্লাহ এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। 

তার আন্দোলন আজও বাংলার ইতিহাসে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।


Post a Comment

0 Comments