বিবাহের অবসান: একটি আলোকিত আগামীর পথে
👰বাল্যবিবাহ হল অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তির বা মানুষের আনুষ্ঠানিক বা ও আনুষ্ঠানিক বিয়ে যেটা ১৮ বছর বয়সের আগে করানো হয় ।
👁️🗨️আইনগতভাবে ১৮ বছর বয়সী হচ্ছে বিয়ের বয়স। ১৮ বছর বয়সের আগে সাধারণত অভিভাবকের অনুমতি নিয়েই এই বিয়ে হয়ে থাকে। কিছু কিছু দেশে আইনের থেকেও নিজেদের প্রথাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় । বাল্যবিবাহ মেয়ে ও ছেলে উভয়ারী ক্ষতি হয়। তবে মেয়েরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । বাল্যবিবাহ বিশেষ করে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণেই হয়ে থাকে । বেশি এতে মেয়েরাই কম বয়সে হয়ে থাকে ছেলের বয়স্ক হয়ে থাকে।
বাল্যবিবাহ বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। আর এই প্রথা অনেক আগে থেকেই হয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা ,রাজনৈতিকতা ,অর্থনৈতিক কারণসমূহ ।
🗾এখনো উন্নয়নশীল দেশসমূহ যেমন আফ্রিকার কিছু অংশ, এশিয়া পূর্ব , পশ্চিম এশিয়া, লাতিন আমেরিকাএবং ওসেনিয়া প্রভৃতি দেশে বাল্যবিবাহ প্রচলিত এখনো ।
🇻🇮এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতেও আইনি ব্যতিক্রম গুলিতে ১৭ টি রাজ্যের ন্যূনতম বয়সের প্রয়োজন নেই।
নাইজার,চাঁদ, মালি ,ভারত ,বাংলাদেশ,গিনি ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে বাল্যবিবাহের হার সবচাইতে বেশি যা প্রায় ৬০% এর ওপর ২০০৩ থেকে ২০০৯ জরিপ অনুযায়ী ।
নাইজার, চাঁদ, বাংলাদেশ , মালি এবং ইথিওপিয়াতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল্যবিবাহের হার ২০% এর ওপর ।
📨ইতিহাস:
১৫৩৩ সালে স্যাক্সিন রাজ্যের রাজকন্যা এমিলিয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের রাজপুত্র ৪৮ বছর বয়সী জর্জ কে বিয়ে করেন ।
শিল্প বিপ্লবের আগে ভারত চীন এবং পূর্ব ইউরোপ সহ বিশ্বের অনেক অংশে নারীরা তাদের মধ্য কিশোর বয়সে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর পরে বিয়ে করার প্রবণতা ছিল। যে সমাজে জনসংখ্যার অধিকাংশ ক্ষুদ্র কৃষি সম্প্রদায় বাস করত। তারা উনবিংশ শতাব্দীতে এই বিবাহ চর্চা বলে চিহ্নিত ছিল। পুরুষদের সমাজে দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতা ছিল। যেখানে একটি বিবাহিত দম্পতি তাদের নিজস্ব একটি পরিবার প্রতিষ্ঠা করার আশা করত। সাধারণত পুরুষরা অবিবাহিত থাকে যতক্ষণ না তারা একটি নতুন বাড়ি তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ জমা করতে পারত এবং কিশোরী মেয়েদের সাথে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক বয়স হিসেবে বিয়ে হত। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে মেয়েদের সাধারণত বয়ঃসন্ধ্যের আগেই বিয়ে দেওয়া হতো ।প্রাচীন গ্রিসে কম বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্ব উৎসাহিত করা হতো ।এমনকি ছেলেদের ও তাদের মেয়েদের বিয়ের জন্য উৎসাহ দেওয়া হত। বাল্যবিবাহ ও কৈশোরের গর্ভধারণ খুবই সাধারণ ঘটনা ছিল ।
🇷🇴প্রাচীন রোমে মেয়েদের বিয়ের বয়স ছিল ১২ বছরের ওপর এবং ছেলেদের ১৪ বছরের উপর। মধ্যযুগে ইংলিশ আইন অনুসারে ১৬ বছরের পূর্বে বিয়ে সর্বজন স্বীকৃতি ছিল ।
ধর্ম:
🪯বেশিরভাগ ধর্মে বিবাহযোগ্য বয়সকেই সমর্থন করা। হয় খ্রিস্ট ধর্মে বয়সন্ধির আগে কোন মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে । হিন্দু বৈদিক লিপিতে মেয়েদের বিয়ের বয়সন্ধিক শুরুর তিন বছর পর করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইহুদি বিশেষজ্ঞগণ বয়ঃসন্ধির পূর্বে বিয়ে নিরক্ষরিত করেছেন। কিন্তু একই সাথে ক্ষেত্র বিশেষ তিন থেকে ১২ বছরের শিশুকন্যাকে তার পিতা বিয়ে দিতে পারে ।১৯৮৩ সালে যাজকীয় অনুশাসনে, ১৯১৭ সালের সংশোধিত বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪ বছর বজায় থাকে ।
কিছু ইসলামী বিয়ের ও প্রথা অনুযায়ী, ১০ বছরের কম বয়সে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রচলন আছে। সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিমের বর্ণনা অনুসারে শরিয়া আইনের ভিত্তি হল, মোহাম্মদের জীবনাদর্শ। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু (আ:) ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং নয় বছর বয়স থেকে বৈবাহিক জীবন শুরু করে। কিছু মূলধারার ইসলামী চিন্তা বিদদের মতে, সময় না ক্রমিক বয়স নয় বরং অভিভাবকরা যখন মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিবাহযোগ্য মনে করবে মুসলিম ধর্মীয় আইন অনুযায়ী সেটাই বিয়ের উপযুক্ত বয়স ,তবে তা নির্ধারণ করা কঠিন এবং শরিয়া আইনের ভিত্তি অনুযায়ী এবং অধিকাংশ মুসলিম চিন্তাবিদের মতে ১৩ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য ।
লিঙ্গভেদে :
👦ছেলেদের কখনো কখনো অপরিণত বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়,কিন্তু ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে মেয়েরা এর বেশি শিকার হয়।অপরিণত বয়সে ছেলেদের বিয়ের হার সামান্য সেপ্টেম্বর ২০১৪ এর হিসাব অনুযায়ী ১৫৬ মিলিয়ন ছেলে বাল্যবিবাহের শিকার ।
👩মেয়েদের ওপর বাল্যবিহার প্রভাব অনেক বেশি। বিশেষ করে মেয়েদের ওপর বাল্যবিহার প্রভাব অনেক বেশি। বিশেষত স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে এর প্রভাব কৈশোরের পরস্থায়ী হয় । উন্নয়নশীল বিশ্বে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারী মৃত্যুর প্রধান কারণ গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব । পৃথিবীর সর্বোচ্চ বাল্যবিবাহের দেশ নাইজার , প্রতি চারজনের মধ্যে তিন জন মেয়ের বিয়ে হয় তাদের ১৮ তম জন্মদিনের আগে ।
বাল্যবিবাহের কারণ :
ইউএনএফপি এর তথ্য মোতাবেক, যে সকল কারণে বাল্যবিবাহের জন্য দায়ী তার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিশীলতা, লিঙ্গবৈষম্য, জমিজমা বা সম্পদের চুক্তি, পরিবারের সম্মান রক্ষা, প্রচলিত প্রথা বা চর্চা এবং নিরাপত্তাহীনতা বিশেষত্ব যুদ্ধ -দুর্ভিক্ষ বা মহামারীর সময়। অন্যান্য কারণ সমূহের মধ্যে আছে বিয়ের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন গড়ে তোলা । নিচে কিছু কারন দেয়া হল যথা-
- দারিদ্রতার কারনে
- অশিক্ষার কারনে
- সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারনে
- সামাজিক প্রথা ও সরস্কার এর কারনে
- জেন্ডার বৈশম্য ভেদের কারনে
- কুসরস্কার এর কারনে
- আইনের দূর্বল ব্যবস্থার কারনে
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের :
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হলে সবার আগে সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহ সবসময় কুফল ডেকে আনে কখনো বাল্যবিবাহ সুফল ডেকে আনে না প্রতিরোধের কারণ সমূহ যথা -
- শিক্ষার প্রসার ঘটানো
- সচেতনতার বৃদ্ধি করা
- আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা
- মেয়েদের আর্থিক স্বনির্ভরতা হওয়া
- স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা
- কমিউনিটির সাহায্য গ্রহণ করা
📔একটি বাল্যবিবাহের গল্প -
🧚একটি মেয়ে নাম তার খুশি। বয়স ছিল ১৫ ।খুব প্রাণবন্ত সচ্ছল খুব সুন্দর দিন কাটছিল। তার পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল। প্রত্যেক ক্লাসে এসে ফার্স্ট হত। রূপে গুনাহ সব দিকেই ভরপুর ছিল । যত বড় হতে লাগলো দেখতে তত সুন্দর হতে লাগে মেয়েটি। সে তার পড়াশোনা নিয়েই খুব ব্যস্ত ছিল পড়াশোনাতে সে অনেক বড় হতে চেয়েছিল। চেয়ে ছিল বড় কিছু হবে।মেয়েটা যত বড় হতে লাগলো তার বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসার শুরু করল। তার পরিবার ছিল অসচ্ছল ।তারা ছিল তিন বোন। তার বাবা দিনমজুর করে খেত। মেয়েটি তার পড়াশোনা সে নিজেই চালাত হঠাৎ এরকম ভালো ভালো প্রস্তাব দেখে তার বাবা তাকে বিয়ে দিতে চাই কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না । এতেই নেমে আসে তার বাবা চাচাদের অমানবিক নির্যাতন। হয়তো বাবা নিরুপায় ছিল কারণ ভরণ পোষণ চালাতে পারছিল না মেয়েটি অনেক চেষ্টা করে বিয়ে ঠেকানোর জন্য। তার মা তার সাথে ছিল তার সাপোর্টে ছিল। অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটি যখন বিয়ে ভাঙতে পারছিল না, তখন তার শিক্ষকদের ফোন দেয় তারা এসে তার বাবাকে বোঝায় তাতেও কোন কাজ হয় না। মেয়েটি ভেবে নিল যে সে আর দুনিয়াতে থাকবে না ।নিজের সাথে অনেক লড়াই করা শুরু করল সে চিন্তা করলো আমি যদি মরে যাই তাহলে আবার আমার মা বোনদের কি হবে? সে আবারও অনেক ভাবতে লাগলো কিভাবে এই বিয়ে ঠেকানো যায়। কোন রাস্তা না পেয়ে সে উপজেলার ইওনোকে জানাই তারপর যেদিন তার বিয়ে সেই দিন ইওনো তার পুলিশ নিয়ে এসে তার বিয়ে আটকে দেয় কিন্তু সে তার বাবার তরফ থেকে তাদের কাছে মাফ চেয়ে বাবাকে ছাড়িয়ে রাখে।
এই গল্প থেকে আমরা শিখে নিতে পারি যে একজন সাহসিকতার সাথে কিভাবে বাল্যবিবাহ রো দ করা যায় । এখন সমাজ প্লাটাচ্ছে তাই এখন অনেক টাই কমতে শুরু করেছ বাল্য বিবাহ।

0 Comments