পারফেক্ট গৃহসজ্জার জন্য সহজ পরামর্শ


 

একটি পরিপাটি গৃহ শিল্পী মনের পরিচয় বহন করে 

 🏡 গৃহসজ্জা

গৃহ হচ্ছে আমাদের বাসস্থান। এই গৃহ কে বসবাসের উপযোগী করার জন্য দরকার হয় আসবাবপত্রে। আর গৃহকে আকর্ষণীয় মনোরম করে নান্দনিকতা বৃদ্ধির জন্য দরকার হয় গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার। অভ্যন্তরী সাজসজ্জার জন্য দামে আসাবাপত্রের প্রয়োজন হয় না নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কম দামী আসবাবপত্র দিয়ে গৃহকে সুসজ্জিত করা যায়। গৃহ সজ্জার মাধ্যমে নিজের রুচি ও শিল্প মনের পরিচয় ফুটিয়ে তুলে যায়। গৃহকে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সুন্দর করে বসবাসের উপযোগী করে তোলার জন্য অভ্যন্তরী সাজসজ্জা একান্ত প্রয়োজন। 

🪵আসবাবপত্র  

আসবাবপত্র বলতে খাট,আলমারি,সোফাসেট,ওয়ারড্রোব, চেয়ার,টেবিল,বুক সেলফ ইত্যাদি ভারি অথচ বহনযোগ্য গৃহসজ্জা সামগ্রিক বোঝায়। গৃহের বিভিন্ন কাজ সহজতর করার ক্ষেত্রে আসবাপত্রের ভূমিকা অনেক। এ ছাড়া ঘরের সৌন্দর্য  বৃদ্ধি করতে এগুলোর জুড়ি নেই।

আসবাবপত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে :

১.প্রয়োজন - আসবাব কেনার সময় প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে আসবাবটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। প্রয়োজন না থাকলে সেটি কেনা অপচয়ের সামিল।  তাছাড়া পুরনো আসবাব যদি রং বা বার্নিশ করে ব্যবহার করা যায় তাহলে নতুন আসবাব কিনে অর্থের অপচয় করা ঠিক নয়।

২.পরিবারের আয় - পরিবারের আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে আয় এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করতে হবে। আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে আসবাব নির্বাচন করলে তা সমাজেও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। যদি আয় বিবেচনা না করে বেশি দামে আসবাব কেনা হয় তাহলে তা সমাজ ও দৃষ্টি কটু হয়।

৩.স্থায়িত্ব - আসবাবের স্থায়িত্ব নির্ভর করে উপকরণ ও নির্মাণের ওপর। কাঠ যদি কাঁচা হয় আর তা দিয়ে আসবাব তৈরি করা হয় তাহলে তা ঘুনে ধরে নষ্ট হয়ে যাবে। আবার যদি পাকা কাঠ দিয়ে আসবাব তৈরি করা হয় তবে তা মজবুত হয় আর এর স্থায়িত্ব বেশি হয়। 

৪. নকশা - আসবাবের নকশা হতে হবে রুচিসম্মত। সেক্ষেত্রে শিল্প-সম্মত, আরামদায়ক ও যুগোপযোগী নকশাই বেশি গ্রহণযোগ্য। আবার নকশাটি এমন হতে হবে যাতে সেটি পরিষ্কার করত কষ্ট কম হয় এবং সময়ও কম লাগে। 

৫.যত্ন - আসবাপত্র নির্বাচন করার সময় যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কারণ আসবা পত্রে সৌন্দর্য এ রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নের উপর নির্ভর করে। 


⚱️আসবাব বিন্যাস

আসবাব নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে সঠিকভাবে আসবাব বিন্যাস করা। ঘর সাজানো কে উদ্দেশ্য করে যে আসবাব বিন্যাস করা হয় তা নয়। গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জাকে আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক করার জন্য সঠিকভাবে আসবার বিন্যাস করা হয়। গ্রাম কিংবা শহর সব জায়গায় গৃহসজ্জার আসবাব বিন্যাসের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।যেমন :


  • প্রয়োজনীয় আসবাব বিন্যাস - আসবাব বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রথমে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে কোন ঘরে অতিরিক্ত আসবাব রাখতে নেই।  এতে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির বদলে সৌন্দর্য কমে যায়। বাসগৃহের যেকোনো কক্ষ সাজানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে কক্ষটি কোন কাজে ব্যবহার করা হবে কখনো যে কাজে ব্যবহৃত হবে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আসবাব রাখতে হবে। যেমন:

শয়ন কক্ষ - খাট, আলমারি, ওয়ারড্রব, আলনা ইত্যাদি। 

বসার কক্ষ - সোফাসেট, চেয়ার, টেবিল, বুকসেলফ ইত্যাদি। 

খাবার কক্ষ - ডাইনিং টেবিল, ফ্রিজ, শোকেস ইত্যাদি। 

পড়ার কক্ষ - চেয়ার, টেবিল, বুকসেলফ, কম্পিউটার ইত্যাদি। 

  • ব্যবহারিক সুবিধা - আসবাবের ব্যবহারের দিকটি বিবেচনা করে আসবাপত্র বিন্যাস করতে হবে। 

  • হাঁটাচলার সুবিধা - যে কোন কাজ সম্পাদনের সুবিধা, চলাচল ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে আসবো সাজাতে হবে। ঘরের মধ্যে কোন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচলে যাতে অসুবিধা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আসবা বিন্যাস করতে হবে। 

  • কাজ অনুযায়ী আসবাব বিন্যাস - কোন কক্ষে আসবাব বিন্যাস করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে কক্ষ কোন কাজে ব্যবহৃত হবে অর্থাৎ কক্ষে যে যে কাজ করা হবে সে কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত আসবাব স্থাপন করতে হবে। 

  • পর্যাপ্ত আলো বাতাসের চলাচলের সুবিধা - আসবাবসমূহকে এমনভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে ঘরের ভিতরের দরজা-জানালা খুলতে বা বন্ধ করতে কোন অসুবিধা না হয়। এছাড়া ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢুকতেন না পারলে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও ব্যাহত হয়।

🏠শয়নকক্ষ 

সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর মানুষ যখন গৃহে ফিরে আসে তখন গৃহে শান্তিময় পরিবেশ আমাদের আরাম দেয়। তাই শয়নকক্ষের আসবাব এবং তা সাজানোর ক্ষেত্রে আমাদেরকে যত্নবান হতে হবে। 

লক্ষণীয় বিষয় -

১. শয়নকক্ষে খাট,আলমারি,ড্রেসিং টেবিল,আলনা, ওয়ারড্রোব ইত্যাদি আসবাব থাকে। খাটের অবস্থান এমন ভাবে রাখতে হবে যাতে আলো চোখে না পরে।

২. শয়নকক্ষের দেয়ালের রং খুব গাড়ো না হয়ে হালকা হলে ভালো হয়। 

৩.খাটের পাশে একটি ছোট টেবিল রাখা যায় যেখানে বই,খবরের কাগজ, পানির জগ-মগ রাখা যায়। 

৪.শয়নকক্ষের দেয়াল সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিত্রকর্ম থাকতে পারে। ড্রেসিং টেবিল অথবা সাইট টেবিলের ওপর ফুলদানিতে ফুল রাখা যায় এতে কক্ষের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। 


🏨বসার ঘর 

সামাজিকতা রক্ষার কেন্দ্রস্থল হল বসার ঘর। আর সাধারণত আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত লোকজন এসে বসার ঘরে বসে। বসার ঘরে সাজসজ্জা বাড়ির লোকেদের রুচিবোধ বাইরের লোকেদের কাছে প্রকাশ করে।

লক্ষণীয় বিষয় -

১.বসার ঘরে সোফাসেট,বুকসেলফ, সোকেস,ডিভান থাকে।

২.বসার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য বড় বড় ফুলদানিতে ফুল, চিত্রকর্ম, একুরিয়াম, খ্যাতিনামা ব্যক্তিত্বের ছবি, কার্পেট ইত্যাদি রাখা যেতে পারে। 

৩.বসার ঘরের আসবাব এমনভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে চলাচলের সুবিধা এবং আলো বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। 


🏘️খাবার ঘর 

খাবার ঘর হচ্ছে এমন একটি কক্ষ যেখানে পরিবারের সবাই একত্রিত হয় এবং একসাথে বসে খাবার খায়। সকলে একত্রে খাবার খেতে বসলে একটি আনন্দময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

১.খাবার ঘরে সাধারণত টেবিল, চেয়ার, মিটসেফ, ফ্রিজ ইত্যািদ থাকে। টেবিল যেকোনো আকৃতির হতে পারে যেমন গোল, চার কোনাকার বা ডিম্বাকৃতির। 

২.খাবার টেবিল যেখানে রাখা হবে সেখানে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

৩.টেবিলের মাঝখানে একটি ঝুড়িতে বিভিন্ন রকমের ফল এবং একটি ফুলদানিতে কিছু ফুল রাখলে তার টেবিলের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়। 

৪.টেবিল এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে চলাচলের কোন অসুবিধা না হয় এবং চেয়ারে বসতো যাতে কোন অসুবিধা না হয়। 


💒অতিথি ঘর 

অতিথি ঘর বলতে বোঝায় যে কক্ষে অতিথি আসলে  থাকে। এই ঘর সাজানোর জন্য খুব বেশি আসবাপত্রের প্রয়োজন হয় না। একটি খাট, আলমারি এবং একটি ড্রেসিং টেবিল হলেই যথেষ্ট।  


🏠পড়ার ঘর 

পড়ার ঘর এমন জায়গায় হবে যেখানে শব্দ গিয়ে পড়াশোনা ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। পড়ার কক্ষ সাজানোর জন্য খুব বেশি কিছু দরকার হয়না একটি টেবিল, চেয়ার এবং বুকসেলফ এই যথেষ্ট তবে খেয়াল রাখতে হবে টেবিলে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো পড়ে।


🛖রান্নাঘর 

রান্নাঘর সাধারণত খাবার ঘরের পাশেই থাকে। রান্নার ঘরের চুলা সবসময় জানালার পাশে হলে ধোয়া সহজেই বাইরে চলে যায়। চুলা গ্যাস, মাটি বা কেরোসেনের হতে পারে। শহর এলাকায় সাধারনত গ্যাসে রান্না করে আর গ্রামাঞ্চলে লাকড়ি বা কেরোসিনের চুলা ব্যবহার করে থাকে। হিটার দিয়ে অনেকে রান্না করে থাকে। রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস রাখার জন্য সেলফ ব্যবহার করতে পারে। সেলফের সব জিনিস গুছিয়ে রাখলে সহজে পাওয়া যায়। 


রুচিশীল মানুষের গৃহসজ্জা দেখলে তাদের রুচিবোধ  চেনা যায়। মানুষ তার শখের বাড়ি মনের মত করে সাজাতে চাই। তাছাড়া ঘর সাজানো গোছানো থাকলে মনও ভালো থাকে। 

Post a Comment

0 Comments